শীতে যেসব সমস্যা বাড়ে

শীতে তাপমাত্রা কমার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসের আর্দ্রতাও কমে এবং শুষ্কতা বাড়ে। এতে শ্বাসনালির স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়। এ ছাড়া পরিবেশে ধুলাবালির পরিমাণও শীতকালে বাড়ে। সব মিলিয়েই সৃষ্টি হয় নানা রকম সমস্যা। এ সময় মূলত শ্বাসতন্ত্রের অসুখ-বিসুখ বেশি দেখা যায়।
ঠান্ডা, শুষ্ক বাতাস হাঁপানি রোগীর শ্বাসনালিকে সরু ও সংবেদনশীল করে দেয়। ফলে হাঁপানির টান বাড়ে। ব্রংকাইটিসের রোগীর বাড়ে কাশি। শিশু, বৃদ্ধ, ধূমপায়ী এবং হাঁপানির রোগীদের জন্য শীতের সময়টা বেশ দুর্ভোগের। আবার এ মৌসুমে ভাইরাস ও অ্যালার্জিজনিত সর্দি-কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা ইত্যাদি সমস্যা বেশি দেখা যায়। শীতের প্রকোপে শুধু ফুসফুস নয়, সাইনাস, কান ও টনসিলের প্রদাহও বেড়ে যায়। নিউমোনিয়ার আক্রমণও এই সময়ে বেশি হয়।
আর্থ্রাইটিস বা বাতের ব্যথার সমস্যাও শীতে বাড়তে পারে। মূলত বয়স্কদেরই এ সমস্যা হয়। এই সময় অনেকের ত্বক আরও শুষ্ক হয়, ফেটে যায় এবং চর্মরোগ দেখা দেয়।


শীতকালে যেসব সতর্কতা জরুরি:

* হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট, ব্রংকাইটিসের রোগীরা ইনহেলার ও প্রয়োজনীয় ওষুধপথ্য মজুত রাখবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত ব্যবহার
করবেন।
* ত্বকের শুষ্কতা কমানোর জন্য পেট্রোলিয়াম জেলি বা গ্লিসারিন, ভালো কোনো তেল বা ময়েশ্চারাইজিং লোশন ব্যবহার করতে পারেন।

* কড়া রোদও কখনো কখনো ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই বাইরে গেলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা ভালো।
* হৃদ্রোগীদের বুকে ব্যথা (অ্যানজাইনা) বাড়তে পারে। শীতে রক্তনালি সংকুচিত হয়ে এ ব্যথা বাড়ে। তাই এ রকম রোগীদের তীব্র ঠান্ডায় বাইরে না হাঁটাই ভালো।
* আর্থ্রাইটিস বা বাতের ব্যথার রোগীরা হাড়ের জোড়া বা সন্ধিকে সচল রাখতে ঘরের ভেতর ব্যায়াম ও চলাফেরা করবেন। প্রয়োজনে গরম সেঁক নেবেন।

Share this

Related Posts

Previous
Next Post »